আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানার অভিযানে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে আটক ০২, একটি খেলনা পিস্তুল, চাকু, ওয়াকিটকি, রশি, সেনাবাহিনীর পোশাক ও বুট উদ্ধার

আরএমপি নিউজঃ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন আলিফ-লাম-মিম ভাটার মোড় পাকা রাস্তার উপর হ’তে ১৫/১১/২০২০ খ্রিঃ ২৩.৫৫ ঘটিকায় জনাব ফারজিনা নাসরিন-এসি বোয়ালিয়া, সঙ্গীয় অফিসার এসআই/শাহিন আকতার, এসআই/আঃ মতিন, এএসআই/নাজমুল হক, কং/সোহেল রানা, কং/মোঃ আঃ সালাম এর সহায়তায় ছিনতাইকারী ১। মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন রাজু (২২), পিতা-আঃ মজিদ, সাং-চব্বিশ নগর, কাদমাপাড়া (জাহাঙ্গীর মাষ্টারের বাড়ীর পার্শ্বে), থানা-গোদাগাড়ী, জেলা-রাজশাহী, (২) আরাফাত ইসলাম রুষ্ট (১৯), পিতা-মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম রুবেল, মাতা-মোসাঃ দিপা ইসলাম, সাং-শিরোইল কলোনী ২নং গলি, থানা-চন্দ্রিমা, মহানগর রাজশাহীদ্বয়কে আটক করেন। তাদের সঙ্গীয় ০২ জন পালিয়ে যায়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রথমে সেনাবাহিনীর সদস্য বলে পরিচয় দেয় এবং আইডি কার্ড দেখায়।

আইডি কার্ড দেখে সন্দেহ হওয়ায় আটককৃত দের তল্লাশী করে তাদের কাছ থেকে একটি খেলনা পিস্তুল, দুইটি ফোল্ডিং চাকু, একটি ওয়াকিটকি, একটি রশি, একটি ব্যাগে সেনাবাহিনীর পোশাক ও বুট পাওয়া যায়। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা মোটরসাইকেল আরোহীদের রশি ধরে গতিরোধ করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নেয়। উক্ত স্থানে পলাতক দুইজন সহ চারজন মিলে রশি দিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর গতিরোধ করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করার জন্য তারা উৎপেতে ছিল। আসামীদ্বয়ের মোবাইল পর্যালোচনা করে তাতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিধান করে আইডি কার্ড ঝুলানো সহ হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে ছবি এবং সেনাবাহিনীর ট্রেনিং-এ অংশ গ্রহণকৃত অন্যের ছবিতে নিজের ছবি এডিট করে স্থাপন করার ছবি পাওয়া যায়, এডিটকৃত সেনাবাহিনীর ছবি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে আদান-প্রদান করে একাধিক মেয়েকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রলুব্ধ করে প্রেমের সম্পর্ক করে থাকে। আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আসামীরা উক্তরূপে অস্ত্র-শস্ত্র সহ ছিনতাই অনুষ্ঠানের উদ্যেগ গ্রহণ, সেনাবাহিনীর পোশাক ও ভূয়া আইডি কার্ড সহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি হেফাজতে রাখা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে একাধিক মেয়েকে প্রলুব্ধ করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার অপরাধ করেছেন।

আসামীদের বিরুদ্ধে উক্তরূপ অপরাধ এর বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রহণ করা হচ্ছে। আরএমপি’র সম্মানিত পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ আবু কালাম সিদ্দিক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে বিশেষ অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অপরাধের খবর পাওয়া যায়। এ অপরাধীরা এবার পুলিশের অভিযানে আটক হওয়ায় এবং মাদক, ছিনতাই, সন্ত্রাস প্রভৃতির বিরুদ্ধে আরএমপির জোরদার অভিযান অব্যহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধ রাজশাহী মহানগরীতে বহুলাংশে কমে আসবে বলে পুলিশ কমিশনার মহোদয় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার / প্রিন্ট করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *