অ্যাজমার লক্ষণ ও করণীয়

(Bronchial Asthma) ব্রঙ্কিয়াল এ্যাজমা নামেও পরিচিত। শ্বাসনালীতে বাতাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে এটি হয়ে থাকে এবং এটি ফুসফুসের একটি প্রদাহজনিত রোগ। অ্যাজমা অনেক সময় জটিল ও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। অ্যাজমা একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ যার মূল লক্ষণ হল শ্বাস কষ্ট ও সাঁসাঁ শব্দে নিঃশ্বাস ফেলা। অ্যাজমা আক্রমণের সময় শ্বাসনালীর আস্তরণ ফুলে যায়, যার ফলে শ্বাসনালী এতটাই সংকীর্ণ হয়ে যায় যে প্রশ্বাস ও নি:শ্বাসে শ্বাসবায়ুর গতি অনেকটাই কমে যায়।

অ্যাজমা কারণ এখনো পুরোটা বোঝা যায়নি। তবুও, অ্যালার্জি, তামাকের ধোঁয়া ও রাসায়নিক উত্তেজক পদার্থে হাঁপানি ক্রমশ: বৃদ্ধি পায় ও এগুলোকে হাঁপানি রোগের মূল কারণ হিসেবে ধারা হয়।

শিশুসহ যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে। অ্যাজমায় মানুষ মারা যায় না বললেই চলে। কিন্তু সুচিকিৎসার অভাবে তারা বেশ কষ্ট পায়। অ্যাজমা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয়, কিন্তু রোগী নিজে যত্নবান হলে এ রোগ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ওষুধ খেয়ে রোগের প্রকোপ কমাতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু ইনহেলার জাতীয় ব্রঙ্কোডাইলেটর ব্যবহার করেও কিছু নিয়ম মেনে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। উন্নত মানের সুস্থ জীবন যাপনের জন্য সঠিক পরিচালনার প্রয়োজন।

অ্যাজমার লক্ষণঃ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

  • কাশি (Cough)
  • শ্বাসকষ্ট (Shortness of breath)
  • শ্বাসপ্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া (Wheezing)
  • শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দেওয়া (Difficulty breathing)
  • নাক বদ্ধ হয়ে যাওয়া (Nasal congestion)
  • জ্বর (Fever)
  • বুকের তীক্ষ্ণ ব্যথা (Sharp chest pain)
  • কোরাইজা (Coryza)
  • বুকের চাপা ব্যথা (Chest tightness)
  • অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া (Allergic reaction)
  • কাশির সাথে শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া (Coughing up sputum)
  • বুকে ভার অনুভব করা (Congestion in chest)

অ্যাজমা হলে করণীয়ঃ

  • অ্যাজমার ওষুধ বা ইনহেলার সবসময় হাতের কাছে রাখুন।
  • ভিটামিন-এ জাতীয় খাবার, কলিজা, গাজরসহ শাক-সবজি ও মধু খাবেন।
  • নিয়মিত চেকআপ করাবেন।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।
  • ধূমপান ও ধুলোবালি এড়িয়ে চলুন।
  • বালিশ লেপ তোশক-পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • ঘরে কার্পেট ব্যবহার না করা।
  • ঠাণ্ডা খাবার আইসক্রিম ইত্যাদি না খাওয়া।
  • বাড়িতে পোষা প্রাণী (কুকুর, বিড়াল) থাকলে নিয়মিত গোসল করাতে হবে বা পরিচ্ছন রাখতে হবে।
  • মানসিক চাপ, উৎকণ্ঠা এড়িয়ে চলতে হবে।

হেলথ টিপস্ঃ

নিম্নলিখিত উপাদান ব্যবহারের মাধ্যমে এ্যাজমার প্রকোপ কমানো যায়-

  • আদা (Ginger)
  • সরিষার তেল (Mustard Oil)
  • ডুমুর (Figs)
  • রসুন (Garlic)
  • কফি (Coffee)
  • ইউক্যালিপ্টাস গাছ হতে সংগৃহীত তেল (Eucalyptus Oil)
  • মধু (Honey)
  • পেঁয়াজ(Onions)
  • লেবু (Lemon)

• স্যামন মাছ (Salmon)

শেয়ার / প্রিন্ট করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *