ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর সাজা

শেয়ার / প্রিন্ট করুনঃ

সরকারি অর্থ কেলেঙ্কারির এক মামলায় ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সোস ফিলন ও তার স্ত্রীকে পেনেলোপকে কারাদণ্ড দিয়েছে ফ্রান্সের একটি আদালত।

আদালতের রায়ে ফিলনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন বছর স্থগিত কারাদণ্ড। আদালত তাকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো জরিমানারও রায় দিয়েছে। আর তার স্ত্রীকে দেয়া হয়েছে তিন বছরের স্থগিত কারাদণ্ড।

সরকারি অর্থ তছরুপের কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লড়াই থেকে ছিটকে পড়েন ফিলন। তার সরে যাওয়াতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জয়ের পথ সুগম হয়। ওই সময় অভিযোগ উঠে, পার্লামেন্টারি সহকারী হিসেবে খুব কম কাজের জন্য স্ত্রীকে তিনি ৮ লাখ ৩১ হাজার ইউরো পরিশোধ করেছেন।

গত সোমবার দেয়া রায়ে প্রধান বিচারক বলেন, যে পরিমাণ কাজ হয়েছে সে তুলনায় এই অর্থ প্রদান উপযুক্ত ছিল না। পেনেলোপকে এমন দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল যেটির কোনো কাজ ছিল না। ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের যে ক্ষতি হয়েছে সে জন্য এই দম্পতিকে ৪ লাখ ১ হাজার ইউরো পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ক্ষমতায় থাকাকালীন স্ত্রী পেনেলোপে ফিলনকে নিজের সহকারী হিসেবে চাকরি বাবদ সরকারি তহবিল থেকে নয় লাখ ৩৮ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি প্রায় সাত কোটি ৯৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৫৯ টাকা) বেতন দিয়েছিলেন ফ্রান্সিস ফিলোন। পেনেলোপে প্রধানমন্ত্রী ফিলনের সহকারী হিসেবে কাজ না করলেও তাকে এই অর্থ দেওয়া হয়।

১৯৫৮ সালে ফ্রান্স রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার পর দেশটির ইতিহাসে ফ্রান্সোস ফিলোনই সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক,যিনি কারাদণ্ডাদেশ পেলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির অধীনে ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ফিলন। ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফ্রন্টরানার ছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি কোনো বেআইনি কাজের কথা অস্বীকার করেছিলেন। দল থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়া হলেও তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে প্রথম দফার ভোটেই তিনি বাদ পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *