বিশ্বের সর্বাধিক পছন্দের পর্যটনের দেশ ভুটান

খুব ভোরে আলো আঁধারি মাখা গুম্ফার কোণে দেখা যায় লামা পাঠ করছেন প্রজ্ঞাপারমিতা সূত্র। বাইরে ঠাণ্ডায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে লোমশ কুকুর। নিস্তরঙ্গ ভুটানি জীবন এমনই।

২০২০ সালের বিশ্বের সর্বাধিক পছন্দের পর্যটনের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেল ড্রাগনভূমি ভুটান। আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ম্যাগাজিন সংস্থা লোনলি প্ল্যানেটের সর্বশেষ পরিসংখ্যান তেমনই জানিয়েছে।

রাস্তার মোড়ে এখানে আচমকা ঝুপসি হয়ে নেমে আসে আঁধার মাখা কুয়াশা। উত্তরের তিব্বত ভূমি থেকে হু হু করে ঢুকতে থাকে হিমেল হাওয়া। সেই হাওয়ায় নীল পপি ফুল মাথ ঝুঁকিয়ে পর্যটকদের সম্মান জানায়। এমনই দেশ ভুটান-তার আরও এক নাম বজ্র ড্রাগনের দেশ।

বজ্র ড্রাগনের দেশ ভুটানের দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীন। দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর ও বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ। এমনই দুই দেশের মাঝে ছোট্ট একখণ্ড ভূমি হল ভুটান। পশ্চিমবঙ্গের গায়ে লেপটে থাকা দেশটির সমাজ জীবন, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি, পরিবেশ রক্ষা, সুখী জীবনের খোঁজ দুনিয়াকে চমকে দিচ্ছে।

লোনলি প্ল্যানেটের সর্বশেষ রিপোর্টে, ১৯৫টি দেশের মধ্যে ভুটানকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য বলা হয়েছে। ভুটানের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের পাশাপাশি দেশটির পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নের মাপকাঠি হয়েছে বিচার্য।

লোনলি প্ল্যানেটের রিপোর্ট আসতেই ভুটানের পর্যটন মহল আবেগ তাড়িত। এমনিতেই ড্রাগনভূমির কুয়াশা ঘেরা আকর্ষণ ও বিচিত্র জনজীবন ও প্রকৃতি পর্যটকদের সবসময় টানে। দেশটির অর্থনৈতিক বুনিয়াদ নির্ভর করে পর্যটনের উপরেই।

ভুটান ট্যুরিজম কাউন্সিলের মিডিয়া মুখপাত্র দামচু রিনজিন জানিয়েছেন, এই পর্যটন উন্নয়নের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ আমাদের রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুর কাছে। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায় এমন গৌরব মিলেছে।

তুষার শুভ্র হিমালয়ের একটার পর একটা শিখর ছড়িয়ে ভুটানে। তারই অন্যতম চোমলহরি। সেই সঙ্গে রয়েছে ঘন বনে ঢেকে থাকা সোনালি বাঁদরের আবাসভূমি কালো পাহাড় বা ব্ল্যাক মাউন্টেনের অনবদ্য হাতছানি।

প্রকৃতিকে রক্ষায় স্বচ্ছতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে গিয়েছে দেশটি। রাজধানী শহর থিম্পু, গুরুত্বপূর্ণ শহর ফুন্টশোলিং, পারো, পুনাখা, তাশিগাং দেশটির সর্বত্র পরিচ্ছন্নতাই প্রথম কর্তব্য বলে বিবেচিত হয়।

সুখী ভুটান বিরাট অক্সিজেনের ভাণ্ডার নিয়ে নিজের মতো পরিবেশ রক্ষায় লড়াই করছে। এমনই দেশকে সম্মান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। সেই দেশ এখন বিশ্বের অন্যতম গন্তব্য।

শেয়ার / প্রিন্ট করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *