আরএমপি নিউজঃ আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। বিষ প্রয়োগে গুপ্তচর হত্যাচেষ্টার ইস্যুতে ব্রিটেন ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে দেশটির চলমান টানাপড়েনের মধ্যেই চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও গার্ডিয়ানের।

রোববারের নির্বাচনে পুতিন ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধনকুবের কম্যুনিস্ট পাভেল গ্রোডিনিন পেয়েছেন মাত্র ১২ শতাংশ ভোট।

প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণার পর মস্কোয় একটি সমাবেশে পুতিন বলেন, গত কয়েক বছরের অর্জনের স্বীকৃতি এই ফলাফল। পরের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, আপনি যা বলছেন, তা খানিকটা মজার। আপনি কি মনে করেন, একশো বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই থাকবো?

২০১২ সালের নির্বাচনে পুতিন ৬৪ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে হিসেবে এবার তার ভোট কিছুটা বেড়েছে।

রাশিয়ার ভোটাররা রোববার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। দেশটির সর্বপূর্বের প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ২টায়) ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিশাল দেশ হওয়ায় প্রমাণ সময়ের ব্যবধানের কারণে এর ৯ ঘণ্টা পর মস্কোর ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট শুরু হয়। পূর্বাঞ্চলে ভোট গ্রহণ শুরুর ২২ ঘণ্টা পর সর্বপশ্চিমের অঞ্চল কালিনিনগ্রাদে ভোটের সময় শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

রাশিয়ার ৭ম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পুতিন নিজে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়ে ভোট দিয়েছেন। তিনি রোববার সকালে রাজধানী মস্কোর কোসিয়াগিন সড়কে রাশান একাডেমি অব সায়েন্সেসে স্থাপিত ২১৫১ নম্বর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটটি দেন।

১৯৯৯ সালের শেষদিক থেকে প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার কেন্দ্রে আছেন তিনি। ৬৫ বছর বয়সী পুতিন সোভিয়েত একনায়ক যোসেফ স্ট্যালিনের পর সবচেয়ে বেশিদিন ক্রেমলিনের ক্ষমতায় থাকা দ্বিতীয় নেতা হতে যাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট পদে পুতিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন- কোটিপতি কমিউনিস্ট পাভেল গুডিনিন, সাবেক টিভি উপস্থাপিকা সেসনিয়া সোবচাক, জাতীয়তাবাদী ভদ্মাদিমির ঝিরনোভস্কি, সের্গেই ব্যাবুরিন, গ্রেগরি ইউলিনেস্কি, বরিস তিতোভ ও ম্যাক্সিম সেরিকিন। তবে জালিয়াতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। যদিও এ পুরো প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে অভিহিত করেছেন পুতিনের এই কট্টর সমালোচক।

রাশিয়ার নির্বাচন পরিচালনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্যমতে, ৩০ হাজার পর্যবেক্ষক সারাদেশে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। রাশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী একজন রাজনীতিবিদ ছয় বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অবশ্য ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই মেয়াদ ছিল মাত্র চার বছর। কিন্তু ওই বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের শাসনামলে প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা হয়। [সুত্রঃ সমকাল]