স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জঙ্গি, মাদক ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশ ও জোরালো ভূমিকা পালন করছে। অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশ প্রতিনিয়ত নানা তথ্য- উপাত্ত পুলিশকে অবহিত করছে এবং সে আলোকে পলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফলে সামাজিক অপরাধীর প্রভাব আরো কমে এসেছে। গত শনিবার “কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০১৭” উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণকেও এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,‘ কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা গেলে পুলিশের কাজে তাদের সহযোগিতা যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি সমাজে অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে। কমিউনিটি পুলিশ জোরদার হলে সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া যাবে। ছোট ছোট বিরোধ উৎসের সময়ই শেষ করে দিতে পারলে থানায় আর মামলা করতে হবে না। আইজিপি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং হলো জনগণের কাছে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশের জবাবদিহি করা। দেশের জনগণের সঙ্গে থানা-পুলিশের দূরত্ব কমলেই কমিউনিটি পুলিশিং সফল হবে। অপসংস্কৃতি নিবৃত্ত করাই কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কাজ। কমিউনিটি পুলিশ সক্রিয় হলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক দ্রব্য, ইভটিজিং ও বাল্য বিয়ে থাকবে না।

আসলে মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সামাজিক অনুশাসন না থাকার পরিনাম কী ভয়াবহ হতে পারে তা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন ফিরিয়ে আনা, মূল্যবোধ নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা-এসব কথা অনেক বলা হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। তবুও আমরা আশাবাদী এ অবস্থার উন্নতি হবে। পাশাপাশি আমরা পাড়ায়-মহল্লায় নিজ নিজ উদ্যোগে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি। নিজেদের মহল্লা অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারি। আর এটা সম্ভব নিজেদের এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং আন্দোলন আরো জোরদার করা। পুলিশের পক্ষে সবকিছুর ওপর নজরদারি রাখা অনেক সময় সম্ভবপর হয়ে ওঠেনা। এ জায়গায় আমরা সহায়তাকারীর ভূমিকা নিতে পারি। মোদ্দাকথা, পাড়ায়-মহল্লায় অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।