উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে দাবি করে গুলি করে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা দিয়ে শনিবার পরমাণু বোমাবাহী মার্কিন জঙ্গিবিমান বি-১বি উড়ে যাওয়ার পর সোমবার এ হুমকি দিল দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো খোদ নিউইয়র্ক শহরে বসে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তোপদাগান।তার অভিযোগ, জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

ইয়ং-হো বলেন, বিশ্ববাসীর জানা উচিত- যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় যে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার আছে পিয়ংইয়ংয়ের। এমনকি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে নিজেদের আকাশসীমার বাইরেও গুলি করতে পারে উত্তর কোরিয়া।উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার পর উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সামনে এখন সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার পথ উন্মুক্ত রয়েছে। এরপর এ যুদ্ধে কে টিকে থাকবে সেটি সময়ই বলে দেবে।

প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ‘প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে ফেলার হুমকি দেন।এর পর দিন সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো ট্রাম্পের বক্তব্যকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ অভিহিত করে কঠোর সমালোচনা করেন।অন্যদিকে শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এক বিরল ব্যক্তিগত বিবৃতিতে ট্রাম্পকে বিকৃত মস্তিষ্কগ্রস্ত মার্কিনী বলে কটাক্ষ করেন।এর পর দিন মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন শনিবার জানায়, গুয়াম ও জাপানের ওকিনাওয়া ঘাঁটি থেকে এসব যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে।পেন্টাগনের ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, এই মহড়ার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে এই বার্তা দেয়া হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার পথ খোলা রেখেছেন।এ ঘোষণার পর সোমবার মার্কিন রণতরীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রচারণামূলক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়া।
একই দিন নিউইয়র্ক থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং-হো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ভূপাতিত করার হুমকি দিলেন।

সুত্র: যুগান্তর