আমাদের মহানায়ক

ষাটের দশকেও তিনি ছিলেন আধুনিক। তার  কথা বলার স্টাইল ছিল মনকাড়া।

সে সময়েও টি-শার্টে স্মার্ট; প্যান্টের স্টাইলিশ-কাট তাকে উপস্থাপন করেছে নিজ সময়ের চেয়েও খানিকটা এগিয়ে। তার ফ্যাশন ট্রেন্ড রুপালি পর্দায় ছিল অনন্য চমক। দর্শকদের স্মৃতিতে তাই নায়করাজ রাজ্জাক সব সময়ই অন্যদের চেয়ে আলাদা, আধুনিক। নায়ক বলতে যা বোঝায় তার পরিপূর্ণ এক প্যাকেজ ছিলেন তিনি। হাল ফ্যাশনের স্রোতে গা না ভাসিয়ে, নায়করাজ রাজ্জাক নতুন রূপে, পোশাকে ও চলনে-বলনে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন নায়কোচিত ভঙ্গিমায়…

নায়কোচিত চেহারায় ও রোমান্টিক হাসিতে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায় হাজির হতেন নায়করাজ রাজ্জাক। ষাটের দশকেও তিনি ছিলেন আধুনিক। তার নায়কসুলভ ব্যক্তিত্ব মানিয়ে যেত চরিত্রের সঙ্গে। কথা বলার স্টাইল ছিল মনকাড়া। সে সময়েও টি-শার্টে স্মার্ট; প্যান্টের স্টাইলিশ-কাট তাকে উপস্থাপন করেছে নিজ সময়ের চেয়েও খানিকটা এগিয়ে। তার ফ্যাশন ট্রেন্ড দর্শকদের কাছে ছিল চমক। দর্শকদের স্মৃতিতে তাই নায়করাজ রাজ্জাক সবসময়ই অন্যদের চেয়ে আলাদা, আধুনিক। নায়ক বলতে যা বোঝায় তার পরিপূর্ণ এক প্যাকেজ ছিলেন তিনি। হাল ফ্যাশনের স্রোতে গা না ভাসিয়ে, রাজ্জাক নতুন রূপে, পোশাকে ও চলনে-বলনে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন রুপালি পর্দায়। দর্শকরাও সে চমকে ভক্তশ্রেণির কাতারে হুলস্থূল জমাতেন। নায়করাজের সিনেমা ক্যারিয়ার তাই নিজেই এক ইতিহাস। বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন এই রাজা অল্প সময়ের ব্যবধানেই। অভিনয়শৈলী তো বটেই, তার জনপ্রিয়তার পারদ উত্তাপ জমিয়েছে তার শিল্পীসত্তাতেও। একের পর রোমান্টিক জুটি গড়ে দর্শকদের প্রেমে ভাসিয়েছেন। বেদনায়বিধুর গল্পকাহনে তিনি চরিত্রকে মানুষের আবেগে মাখিয়েছেন। ‘রংবাজ’ দিয়ে দেখিয়েছেন, শুধু সিনেমার পর্দায় নন, দর্শকদের মনে দখল করে নিয়েছেন ভালোবাসার পুরোটা জমিন। সিনেমার পর্দায় যেসব গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন সেসবও দর্শকের মনে ‘ভালোবাসার দেবতার ছোড়া তীর’-এর মতো বিঁধেছে। তুমি যে আমার কবিতা, আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন, প্রেমের নাম বেদনা, আমাকে পোড়াতে যতি এত লাগে ভালো, ও মেয়ের নাম দিব কি ভাবি শুধু তাই, আমি তো বন্ধু মাতাল নই/বল বেইমান, নীল আকাশের নীচে আমি রাস্তায় চলেছি একা, ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই— এমন বহু গান তার ঠোঁটে মেখেছে অমিয় সুধা। নায়করাজ রাজ্জাক দেশভাগের পরে, ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সপরিবারে চলে আসেন। টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় ‘ব্রেক’ এনে দেন চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান। ‘বেহুলা’ ছবির নায়কের চরিত্রে জহির রায়হান নিলেন রাজ্জাককে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে যান ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবির মাধ্যমে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরও রাজ্জাক একের পর ব্যবসা সফল ও চূড়ান্ত জনপ্রিয় সব সিনেমা নিয়ে দর্শকদের বুঁদ করে রাখেন। ওরা ১১ জন, অবুঝ মন, রংবাজ-এর মতো ছবিগুলো তো বাংলা সিনেমার ইতিহাস হয়ে ওঠে। রাজ্জাক অভিনীত কালজয়ী সিনেমার নামের তালিকায় বেশ দীর্ঘ। বাংলা সিনেমার এই মহানায়কের দেহ অবসান হলেও তার শিল্পীসত্তা অম্লান। চিরসবুজ, আধুনিক ভাবধারার মহানায়ক হয়ে তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন— ফ্যাশনে, স্টাইলে আমাদের সত্যিকারের মহানায়ক তিনি।

সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

শেয়ার / প্রিন্ট করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *