জঙ্গিবাদ দমন ও মাদক নির্মূলে পুলিশ বদ্ধপরিকর -আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল জনাব এ কে এম শহীদুল হক বিপিএম, পিপিএম বলেছেন, জঙ্গিবাদ ও মাদক সমাজের জন্য ভয়ংকর অভিশাপ। বাংলাদেশ পুলিশ জঙ্গিবাদ দমন ও মাদক নির্মূলে বদ্ধপরিকর। সমাজ তথা দেশকে জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে রক্ষার জন্য আমরা কঠোর পুলিশি কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।

গতকাল ১৯ আগস্ট ২০১৭ রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীতে ‘৩৫তম বহিরাগত ক্যাডেট এসআই ২০১৬ ব্যাচের’ প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। তিনি বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, অভিবাদন গ্রহণ এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অজর্নকারীদের মাঝে পুরস্কার ও পদক বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে একাডেমীর প্রিন্সিপ্যাল মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশিক্ষকগণ, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি পুলিশের জনবল বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশ পুলিশকে একটি বিশ্বমানের বাহিনীতে পরিণত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাই পুলিশ বাহিনীকে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসআইদের উদ্দেশ্যে পুলিশ প্রধান বলেন, পুলিশের তদন্তের ওপর ভিত্তি করে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং ভিকটিম তার প্রতিকার পাবে। তাই পুলিশ সদস্যদেরকে দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সাথে অপরাধ তদন্ত করতে হবে। তিনি সকল লোভ লালসার ঊর্ধ্বে থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসআইদের প্রতি আহ্বান জানান।

আইজিপি বলেন, পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। পুলিশ সদস্যদেরকে জনগণের সাথে সবসময় ভালো আচরণ করতে হবে, মনে রাখতে হবে জনগণই পুলিশের প্রকৃত বন্ধু।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে জঙ্গিবাদ, সাইবার ক্রাইম, ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হবে। নিজেদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এ বছরই প্রথম আনআর্মড কমব্যাট প্রশিক্ষণে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যেন তৃণমূল পর্যায়ে আরো সক্ষমতা ও দক্ষতা প্রদর্শন করা সম্ভব হয়।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৫ জন নারীসহ ১৩২১ জন বহিরাগত ক্যাডেট এসআই তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণে বেস্ট একাডেমিক শেখ মোঃ রাশিদুল হাসান, প্যারেডে তানজির আহমেদ, পিটি ও বাধা অতিক্রমে সুখবিন্দু রায়, মাসকেট্রিতে মাসুদুর রহমান, রাইডিংয়ে মোহাম্মদ আলী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। বেস্ট ক্যাডেট নির্বাচিত হয়েছেন শেখ মোঃ রাশিদুল হাসান ।

 

 

শেয়ার / প্রিন্ট করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *