‘বিশ্বে মাত্র ২ শতাংশ সাংসদের বয়স ৩০ এর নিচে’

বিশ্বের ৫৭ শতাংশ ভোটারের বয়স ২০ থেকে ৪৪ বছর; এর মধ্যে ৩০ বছরের কম বয়সী মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণের সংসদে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। মঙ্গলবার আইপিইউ সম্মেলনের চতুর্থ দিনে ‘ফোরাম অব ইয়ং পার্লামেন্টারিয়ানস’ এ তথ্য জানায়। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট উগান্ডার তরুণ সাংসদ মাউরিন অসরো ও আইপিইর জেন্ডার পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের প্রধান জিইনা হিলাল সম্মেলন কেন্দ্রের মিডিয়া সেন্টারে তরুণ সাংসদদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন। ১২৮টি দেশের সাংসদদের ওপর ‘ইয়ুথ পার্টিসিপেশন ইন ন্যাশনাল পার্লামেন্ট ২০১৬’ শীর্ষক এক গবেষণা জরিপ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। গবেষণায় বয়সসীমার তুলনামুলক চিত্রে দেখা যায়, বিশ্বে সাংসদদের মধ্যে ৩০ বছরের নিচে রয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ; ৪০ বছরের নিচে নিচে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৪৫ বছরের নিচে বয়স রয়েছে ২৬ শতাংশ সাংসদের। যদিও ২০ থেকে ৪৪ বয়সসীমার ভোটার রয়েছে ৫৭ শতাংশ। বিশ্বে সবচেয়ে তরুণ সাংসদদের প্রতিনিধিত্ব বেশি রয়েছে সুইডেনে, যেখানে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ সাংসদের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে।
ইকুয়েডর রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে; দেশটিতে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ সংসদ সদস্যের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তৃতীয় স্থানে ফিনল্যান্ড ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা নরওয়েতে ১০ দশমিক ১ শতাংশ পার্লামেন্ট সদস্য রয়েছেন, যাদের বয়স বয়স ৩০ বছরের নিচে। ৪০ বছরের নিচে বয়সী সাংসদদের মধ্যে ডেনমার্কে রয়েছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ, এনডোরা ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ ও ইকুয়েডর ৩৮ শতাংশ। ৪৫ বয়সের নিচে রয়েছে ওমানে ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ইথিওপিয়া ৬৩ দশমিক ৬ এবং এনডোরা ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদেরকে এ সমীক্ষায় তরুণ সাংসদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকান দেশগুলোতে ৩০ বছরের নিচের বয়সী সর্বাধিক সাংসদ রয়েছে। তরুণ সাংসদদের মধ্যে পুরষ ও নারী অনুপাত হচ্ছে ৬০ : ৪০।
মাত্র নয়টি দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ৪৫ বছরের নিচের বয়সী ৫০ শতাংশ সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্বে এক দশমিক ২ বিলিয়ন (১২০ কোটি) তরুণ ভোটার রয়েছে। ফোরাম অব ইয়ং পার্লামেন্টারিয়ানসের প্রেসিডেন্ট মাওরিন জানান, সংসদে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব খুবই নগন্য। তরুণরা রাজনীতিতে আসতে অনীহাও প্রকাশ করে। কিন্তু আইপিইউ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তরুণদের ভোটের রাজনীতিতে আরো সক্রিয় করতে ভূমিকা রাখা যাবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে অর্থ, ভোটারদের সাড়া পাওয়া, রাজনীতির মনোনয়ন নিশ্চিত করাসহ নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নিজের দেশের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তুলে ধরে মাওরিন জানান, “১৮ বছর বয়সে সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক হয়। এসময় তাকে সাজার আওতায় এনে প্রয়োজনে জেলেও পাঠানো হয়। কিন্তু একই বয়সে কাউকে সংসদে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। সুখের বিষয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি ইয়ং উইং থাকে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের তৈরি করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে নিতে পারে। আইপিইউ সম্মেলনের মিডিয়া স্পোকসপার্সন জেন মিলিগানও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সুত্র:করতোয়া

শেয়ার / প্রিন্ট করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *