বায়ুমণ্ডল নয়, উষ্ণ হচ্ছে সমুদ্রের পানি : নোয়া

1483605736পৃথিবী গত শতকের তুলনায় একবিংশ শতকের শুরুতে কম উষ্ণ হয়ে উঠছে, বিজ্ঞানীদের এই ধারণাকে ভুল বলে জানালেন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া)। গত বছর তাদের প্রকাশিত এক গবেষণা পত্রের তথ্যানুসারে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আগের মত দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে না এটা ঠিক। কিন্তু সমুদ্রের পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্বিগুণ হারে।

নোয়ার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে গত শতকে সমুদ্রের পানির উষ্ণ যে হারে বেড়েছে, তাতে এই শতকে .০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা দাঁড়িয়েছে .১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অবশ্য নোয়ার এই গবেষণাকে ধাপ্পাবাজি বলে উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের হিসেব অনুসারে এই গবেষণা সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য দিচ্ছে। ২০০০ সালের পরবর্তী গবেষণাগুলো বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির হার হ্রাসের কথা বললেও এখানে বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নোয়ার গবেষক জেকা হাউজফেদার বলেন, আমাদের তথ্য সঙ্গে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে। সেই সঙ্গে তারা আমাদের গবেষণা কার্যক্রমের বিস্তারিত বর্ণনা ও কাজে ব্যবহৃত ইমেইল অ্যাড্রেস চেয়েছে। আমার মতে তাদের উচিত নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে এই গবেষণাটি পুনরায় করে নিশ্চিত হওয়া।

তিনি আরো বলেন, নাসা, বুয়ি ও আমাদের ব্যক্তিগত নৌ যানের সাহায্যে এই তথ্য সম্পূর্ণ পৃথকভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। নাসা ও জাপানের গবেষণা সংস্থার রিপোর্টের সঙ্গে আমাদের পাওয়া তথ্যের কোন পার্থক্য নেই।

এ সময় তিনি অতীতে হওয়া গবেষণাগুলোর দুর্বলতা তুলে ধরে বলেন, তারা গবেষণার জন্য বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর সবচাইতে বড় অংশ জুরে থাকা সমুদ্রের উষ্ণা বৃদ্ধির রেকর্ড তাদের গবেষণায় যোগ করা হয়নি। তাহলে চিত্রটি পাল্টে যেত।

গবেষণায় আরো বলা হয়, বিশ্বের উষ্ণতা বাড়ার হার যদি হ্রাস পেত তাহলে এখনো কেন উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ আগের মতই গলে পড়ছে। আমাদের এই গবেষণায় তার ব্যাখ্যা রয়েছে। পানির উষ্ণতা বাড়ার কারণেই এমনটা হচ্ছে। বিবিসি।

ইত্তেফাক/আরএ

শেয়ার / প্রিন্ট করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *